Saturday, February 6, 2021

প্রশ্ন : রাসূল সাঃ কি মাটির তৈরি, না নূরের তৈরি ??


প্রশ্ন : রাসূল সাঃ কি মাটির তৈরি, না নূরের তৈরি ??

======= জানতে হলে পড়তে হবে 💖💖💖

উত্তর : অবশ্যই মাটির তৈরি!শুধু রাসূল (সাঃ) নয়,পৃথিবীতে যত নবী-রাসূল এসেছেন,তারা সবাই মাটির তৈরি।
1/ আল্লাহ তা’লা বলেন :
" হে রাসুল আপনি বলে দিন যে, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মতোই একজন মানুষ। "
[সূরা কাহাফ, -আয়াত সংখ্যা :১১০]
2/ রাসুল (সাঃ) অন্যান্য নবীদের মত মৃত্যু বরণ করেছেন।
এরশাদ হচ্ছে :
“নিশ্চয়ই তুমি মৃত্যুবরণ করবে এবং তারা সকলে মৃত্যু বরণ
করবে”।[সূরা যুমার, আয়াত সংখ্যা :৩০]
3/ . “তুমি বল, " আমি তো তোমাদের মত একজন মানুষই ,ওহীর মাধ্যমে আমাকে প্রত্যাদেশ দেয়া হয়েছে
যে, তোমাদের উপাস্য এক আল্লাহ্। সুতরাং তাঁর দিকে সত্য পথে চল; এবং তাঁর নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর।” -
[সূরা হামীম সিজদাহ, আয়াত সংখ্যা :০৬]
4/ “(শুধু তুমিই মানুষ যে তা নয়) তোমার পূর্বে যে সব
পয়গম্বর আমি প্রেরণ করেছিলাম তারাও ছিলো মানুষ ,
যাদের জন্য আমি ওহী মঞ্জুর করেছিলাম। যদি তোমরা তা না বুঝে থাক, তবে তাদের জিজ্ঞাসা কর যারা [আল্লাহ্র] বাণীকে ধারণ করে থাকে ।”
[সূরা আম্বিয়া, আয়াত সংখ্যা :০৭]
5/ . “তোমাদের মধ্য থেকেই তোমাদের প্রতি রাসূল
প্রেরণ করেছি , যে তোমাদের নিকট আমার আয়াতসমূহ আবৃত্তি করে, তোমাদের পরিশুদ্ধ করে, এবং তোমাদের কিতাব ও প্রজ্ঞা এবং নূতন জ্ঞান শিক্ষা দেয়।” - [সূরা বাকারা, আয়াত সংখ্যা : ১৫১]
6/. “বল: " আমার প্রভু মহিমান্বিত! আমি তো হচ্ছি কেবল একজন মানুষ,একজন রাসুল মাত্র ।”
[সূরা বনী ইসরাইল, আয়াত সংখ্যা :৯৩]
৭. “এটা কি মানুষের জন্য আশ্চর্য্যের বিষয় যে, আমি
তাদেরই একজনের নিকট আমার ওহী প্রেরণ করেছি ?” [-সূরা ইউনুসঃ০২]
৮. “তাদের অন্তর [তা নিয়ে] তুচ্ছ বিষয়ের মত খেলা
করে। পাপীরা তাদের গোপন পরামর্শ লুকিয়ে রেখে
[বলে] " সে কি তোমাদের মত একজন মানুষ নয়? তোমরা কি দেখে শুনে যাদুর কবলে পড়বে ?”
(-সূরা আম্বিয়াঃ০৩)
9/. “এরা আশ্চর্য হচ্ছে এই ভেবে যে, তাদের মধ্য
থেকেই তাদের জন্য একজন সর্তককারী এসেছে এবং
অবিশ্বাসীরা বলে যে, " এ তো একজন যাদুকর , মিথ্যা
বলছে ।” ( -সূরা ছোয়াদঃ০৪)
১০/. “তারা আশ্চর্য হয় যে , তাদের মধ্যে থেকেই
তাদের নিকট একজন সতর্ককারী এসেছে। সুতরাং
অবিশ্বাসীরা বলে, " এটা তো বড় আশ্চর্য ব্যাপার !”-
(সূরা কাফঃ০২)
১১/ . “এবং তারা বলে, " এ কি রকম রসুল, যে [সাধারণ মানুষের মত] আহার করে এবং রাস্তা দিয়ে চলাফেরা করে ? তার নিকট
কোন ফেরেশতা কেন অবতীর্ণ করা হলো না , যে
তাঁর সাথে থাকতো সতর্ককারীরূপে? অথবা তাকে ধন
ভান্ডার দেয়া হয় নাই কেন অথবা উপভোগের জন্য তার
কোন বাগান নাই কেন ? " দুষ্ট লোকেরা বলে, "
তোমরা তো এক যাদুগ্রস্থ লোকেরই অনুসরণ করছো।
("-সূরা ফুরকানঃ০৭-০৮)

******************************

উপরের অংশে প্রমাণ হইছে নবী সাঃ মানুষ আর মানুষ মাত্রই মাটির তৈরি।
মহান আল্লাহ্ বলেন,
1/ " আমি মানবকে পচা কর্দম থেকে তৈরী বিশুষ্ক ঠনঠনে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছি। "সূরা হিজর-২৬।
2/ " আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে মৃত্তিকা থেকে উদগতকরেছেন। "সূরা নূহ্-১৭।
3/ " তিনি মানুষকে সৃষ্টি করেছেন পোড়া মাটির ন্যায় শুষ্কমৃত্তিকা থেকে। "সূরা আর রাহমান-১৪।
4/ " এ মাটি থেকেই আমি তোমাদেরকে সৃজন করেছি,
এতেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে দিব এবং পুনরায় এ থেকেই আমি তোমাদেরকে উত্থিত করব। "
সূরা ত্বো-হা-৫৫।
5/ (ইবলীস) বলল, আমি এমন নই যে, একজন মানবকে সেজদা করব, যাকে আপনি পচা কর্দম থেকে তৈরী ঠনঠনে বিশুষ্ক মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন।
সূরা হিজর-৩৩।
6/ রাসুল (সাঃ) বলেন :
" মানুষ মাটির তৈরী, ফেরেশতা নূরের এবং জ্বিনজাত
আগুনের তৈরী।[মুসলিম-৫৩৪]
******************************

@ কিছু মানুষ, কুরআনের  আয়াতের ভুল ব্যাখ্যা জাল হাদীস কে
তফসির করে বলে, রাসূল সাঃ নূরের তৈরি :
" তোমাদের কাছে একটি উজ্জল জ্যোতি এসেছে এবংএকটি সমুজ্জল গ্রন্থ। " (সূরা মায়েদা, আয়াত : 15)
এখানে উজ্জল জ্যোতি বলতে হেদায়াতের আলো বা
নূরকে নির্দেশ করা হয়েছে,
এ আয়াতে বলা হয়নি যে, রাসূল সাঃ নূরের তৈরি।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বহু জায়গায় কোরআনকেও নূর বলেছেন।যেমনঃ কাজেই তোমরা ঈমান আনো আল্লাহর প্রতি ও তাঁর রাসূলের প্রতি আর সেই
নূরের এর প্রতি যা আমি নাযিল করেছি।[সূরা তাগাবুন আয়াতঃ ৮]
এখানে কোরআনকে নূর বলা হয়েছে।
এখন যদি বলেন, কোরআন নূরের তৈরি তাহলে আপনার ইমান চলে যাবে।কারণ কোরআনকে আল্লাহ নূরের তৈরি বলেন নি।
এখানে আল্লাহ নূর বলতে কোরআনকে বুঝানো হয়েছে।
আর কোরআন হচ্ছে হেদায়েতের নূর।
তেমনি নবী (সঃ) কেও হেদায়েতের নূর বলা হয়েছে।
তাদের আরেকটি জাল হাদীস এ বলে 'আউয়ালুমা খালাকাল্লাহু ফীনুরি'
অর্থঃ আমি প্রথম সৃষ্টি করেছি আল্লাহর নূর!
এই কথাটি পৃথিবীর কোনো হাদীস গ্রন্থে নেই।এটি শয়তানের পক্ষ হতে জাল হাদীস।
এবার নূর নিয়ে আরোও কিছু আলোচনা করা যাকঃ
নূর শব্দের অর্থ আলো,জ্যোতি। নূর শব্দটির প্রকৃত
অর্থে “দৃশ্যমান” আলো আর রূপক অর্থে “অদৃশ্যমান
আলো” তথা হেদায়েত, জ্ঞান ইত্যাদি অর্থে ব্যবহৃত হয়ে
থাকে। কুরআন-হাদিছে উভয় অর্থে নূর শব্দটির ব্যবহার পাওয়া
যায় ।
এ নূরদ্বয়ের মধ্য হতে অদৃশ্য নূরই আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি
ও নৈকট্য লাভের উপায় ।তাইতো ফেরেশতাগণ বাহ্যিক
নূরের সৃষ্টির পাশাপাশি অদৃশ্য নূরের অধিকারী ছিলেন ।
আর আদম (আঃ) মাটির সৃষ্টি হওয়া সত্ত্বেও ফেরেশতাদের
থেকে অনেক বেশি অদৃশ্য নূরের ( জ্ঞান ) অধিকারী
ছিলেন বিধায় তার মর্যাদাও ফেরেশতাদের ঊর্ধ্বে। আর
বাশার বা ইনসান শব্দের অর্থ হল মানবজাতি,আদম সন্তান।
মহান আল্লাহ ‘নূর’ দ্বারা কি বুঝিয়েছেন তা আমরা নিম্নোক্ত
আয়াতে কারীমাসমূহ দ্বারা অনুধাবন করতে পারবো ইনশাআল্লাহ।
আয়াত-১ : আল্লাহ বলেছেন,
" যারা ঈমান এনেছে আল্লাহ তাদের ওলী। তিনি তাদেরকে
যুলুমাত তথা অন্ধকার হ’তে নূরের প্রতি বের করেন "
(সূরা আল-বাক্বারা, আয়াত-২৫৭)।
হাফেয জালালুদ্দীন সুয়ূত্বী বলেছেন :
নূরের প্রতি বলতে ঈমানের প্রতি বের করে এনেছেন
(তাফসীরুল জালালাইন পৃঃ ৫৬)
:
হাদীছে বর্ণিত ‘নূর’ এর অর্থ
:
হাদীছ-১ : ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেছেন :
" যেনা করার সময় যেনাকারী থেকে ঈমানের নূরকে
খুলে নেয়া হয়"
(বুখারী হা/৬৭৭২)।
:
হাদীছ-২ : আবূ মালেক আশ‘আরী (রাঃ) বলেছেন,
রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,…… ছালাত
হ’ল নূর। ছদক্বা হচ্ছে দলীলস্বরূপ। আর ছবর হ’ল
জ্যোতি। এবং কুরআন তোমার পক্ষ্যে বা বিরুদ্ধে
দলীলস্বরূপ হবে
(মুসলিম, হাদীছ-২২৩)।
:
এই হাদীছে ছালাতকে নূর বলা হয়েছে।
তার মানে কি এই যে, ছালাত নামক বস্তুকে বা ইবাদাতকে
আল্লাহ ‘নূর’ দ্বারা সৃষ্টি করেছেন ???
@ যারা রাসূল সাঃ কে নূরের তৈরি বলে বিশ্বাস করেন,
তাদের উদাহরণ নূহ আঃ এর যমনার মুশরিকের মত :
:
মহান আল্লাহ বলেন :
.
" আমি নূহকে তার সম্প্রদায়ের কাছে প্রেরণ করেছিলাম।
সে বলেছিল :হে আমার সম্প্রদায়, তোমরা আল্লাহর বন্দেগী কর। তিনি ব্যতীত তোমাদের কোন মাবুদ নেই। তোমরা কি ভয় কর না।
:
তখন তার সম্প্রদায়ের কাফের-প্রধানরা বলেছিল :
এ তো তোমাদের মতই একজন মানুষ বৈ নয়। সে তোমাদের
উপর নেতৃত্ব করতে চায়।
আল্লাহ ইচ্ছা করলে ফেরেশতাই নাযিল করতেন। আমরা
আমাদের পূর্বপুরুষদের মধ্যে এরূপ কথা শুনিনি। "
:
[সুরা মুমিনূন, আয়াত : 23-24]
:
আর মানুষ মাত্রই মাটির তৈরি, ফেরেস্তারা হল নূরের তৈরি,
.
মাজার পূজারীরা এবং পীর -সুফীবাদিরা রাসূল সাঃ কে নূরের তৈরি
বলে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।
:
:
নবী (সাঃ)বলছেন :
:
" তোমরা আমাকে নিয়ে (আমার তা'যীমে) বাড়াবাড়ি
করো না, যেমন খৃষ্টানরা ঈশা বিন মারয়্যাম (যীশু) -কে
নিয়ে করেছে।
আমি তো আল্লাহর দাস মাত্র। অতএব তোমরা আমাকে
আল্লাহর দাস ও তাঁর রাসুলই বলো "
:
[বুখারী, মুসলিম, মিশকাত/৪৮৯৭]
:
পরিশেষে, একটা কথা বলতে চাই,কেউ বিভ্রান্তির স্বীকার হবেন না।নিজে কোরআন হাদীস পড়ুন তাহলে প্রকৃত সত্য জানতে পারবেন।

No comments:

Post a Comment