1. দিনে ২বার ফ্লস করুণঃ
এই অভ্যাসট আপনার ধমনীতে প্লাক সৃষ্টির পরিমান কমিয়ে আপনার আয়ুতে আরো ৬.৪ বছর যুক্ত করবে।
পাশের মুদি দোকান থেকে অনেকগুলো ছোট ফ্লসার কিনে সেগুলোকে একটা বাটিতে করে টেবিলের উপর রেখে দিন যাতে করে এই সহজ অভ্যাসটির কথা আপনি নিজেকে কিছুক্ষন পর পর মনে করাতে পারেন।
2. আপনার আশেপাশের পরিবেশটা গুছিয়ে রাখুনঃ
বিশৃঙ্খলা সৃজনশীলতাকে হত্যা করে(সাধারণত)।
আপনার ক্যালেন্ডারটা নিন এবং এই সপ্তাহের যেকোনো একটা দিন তিনঘন্টার জন্য নিজেকে বুকিং দিন আপনার বাসা এবং গাড়িটাকে গুছিয়ে রাখতে। কথা দিচ্ছি আপনি আগের চেয়ে ১০গুন বেশী ভাল বোধ করবেন।
3. প্রতিদিন ৫টা জিনিস লিখুন জেগুলোর জন্য আপনি কৃতজ্ঞঃ
আপনার আয় দ্বিগুণ হয়ে পড়লে যেরকম সুখের অনুভূতি হয় এই অভ্যাসটা আপনার সুখবোধকে ততটায় বৃদ্ধি করবে।(না, সত্যি বলছি)।
প্রতিদিন সকালে এমন পাঁচটি জিনিস লিখুন যেগুলোর জন্য আপনি কৃতজ্ঞ এবং জীবনের ছোট্ ছোট ব্যাপারগুলোর জন্য কৃতজ্ঞ হয়ার মনোভাব গড়ে তুলতে শিখুন।
4. প্রতিদিন নিজের আনন্দের জন্য কিছু করুণঃ
৩০-মিনিট আপনার প্রিয় ভিডিও গেমটি খেলুন। উষ্ণ জলে স্নান করুন।অলস বিকেলে আপনার প্রিয় কফিশপে বসে কফির কাপে চুমুক দিন।
প্রতিদিন নিজের মনোরঞ্জন করার জন্য অন্তত কিছু একটা করুন এবং নিজের প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করুন। দেখবেন কেমন অভাবনীয়ভাবে আপনার জীবন বদলে যায়।
5. হাসুন, প্রানখুলে হাসুনঃ
হাসি হচ্ছে আত্নার ওষুধ। প্রতিদিন সকালে ১০ মিনিট এমন কিছু দেখুন যেটা হাসাতে হাসতে আপনার চোখে পানি নিয়ে আসে।
আমি কথা দিচ্ছি, এটা জীবনের উপর বিশাল প্রভাব ফেলবে।
6. প্রতিদিন অন্তত ৩ মিনিট ধ্যান করুনঃ
১০ মিনিট না, ৫ মিনিট না, শুধু ৩ মিনিট।
একটা ভাল স্থানে বসুন, স্টপওয়াচে টাইমার সেট করুন এবং তিন মিনিট গভীরভাবে নিঃশ্বাস নিন।আপনি যদি এই কাজটা প্রতিদিন করেন, আমি কথা দিচ্ছি এটা আপনার জীবনটাকে আপনি যতটুকু আশা করেছেন তার চেয়ে বেশী উন্নত করতে পারবে।
7. প্রতিদিন অন্তত দশ পৃষ্ঠা নন-ফিকশান পড়ুনঃ
সাধারণ একজন সিইও বছরে গড়ে ৫৩টা বই পড়ে।
আপনার এত্তগুলো পড়তে হবে এমন না কিন্তু প্রতিদিন নিজেকে নতুন ধারনা এবং জীবন পরিবর্তনের সাথে সম্পর্কিত বিষয়াদির সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে।
একটা ব্যবসা সংক্রান্ত কিংবা আত্ন-উন্নয়নমূলক বইয়ের শুধু মাত্র ১০ পৃষ্ঠা পড়ুন প্রতিদিন এবং এই সাধারণ অভ্যাসটা জীবনটাকে আমূলে বদলে দিতে সহায়তা করবে।
8. ১০-মিনিট খালিপায়ে বাহিরে হাটুন প্রতিদিন সকালেঃ
বিজ্ঞানের একটি ক্রমবর্ধমান অংশ দেখিয়ে দিচ্ছে যে পৃথিবীর তড়িৎ চৌম্বকীয় ক্ষেত্র মানুষের স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত উপকারী।এমনকি যদি এটা সম্পুর্ণ ভ্রান্ত ধারনাও হয় তবুও খালি পায়ে পৃথিবীর সাথে সংস্পর্শের মধ্যে একটা জাদুকরী ব্যাপার আছে।
জুতো ছাড়া ১০ মিনিট বাহিরে হাটুন প্রতিদিন।ভোরের মৃদু আলো আর পবিত্র বাতাসে গোসল করে আপনি অনেক ভাল বোধ করবেন।
9. ৫০-মিনিট বেশী ঘুমানঃ
ঘুম একটা সুন্দর জীবনের জন্য অপরিহার্য, কিন্তু বেশীরভাগ মানুষ আজকাল পরিপূর্ণভাবে ঘুমাতে পারে না।
নিজেকে ৫০ মিনিট বেশী ঘুম উপহার দিন এবং আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি আপনার কর্মক্ষমতা এবং সুখ নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পাবে।
10. ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করুন ৩০-সেকেন্ডঃ
এটা দোজখের মতোন অস্বস্থিকর কিন্তু মস্তিষ্ক এবং শরীরকে তাৎক্ষনিকভাবে সক্রিয় করার পক্ষে খুবই শক্তিশালী।
ঠান্ডা জলে স্নান আপনাকে জাগ্রত করবে, আপনাকে অসস্তিকর ব্যাপারগুলো গ্রহন করতে শিখাবে এবং প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বৃদ্ধি করবে।
৩০-সেকেন্ড ঠান্ডা জলে গোসল করা দিয়ে শুরু করুন এবং ধীরে ধীরে সময়টা বৃদ্ধি করে ৫-১০ মিনিটে নিয়ে যান।
11. কার্ডের পরিবর্তে নগদ টাকা ব্যবহার করুনঃ
বেশীরভাগ মানুষ যারা আর্থিকভাবে ভোগেন তারা সাধারণত ডেবিট কিংবা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে সবকিছু ক্রয় করে থাকেন।
যদি আপনিও তাদের মধ্যে একজন হয়ে থাকেন, তবে পরবর্তি ৩০ দিন চেষ্টা করুন সবকিছু(অনলাইন বিল এবং ভাড়া বাদে) নগদ অর্থের মাধ্যমে কিনতে।
আপনি খরচ কম করবেন, সঞ্চয়ের বেশি করবেন, এবং আপনার আর্থিক অবস্থা আগের চেয়ে ভাল হবে।
12. আপনার সব খাবার রবিবার এবং বুধবারে প্রস্তুত করে নিনঃ
বেশীরভাগ মানুষ সুবিধাজনক অবস্থায় না থাকার দরুন অস্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে থাকেন।
আপনি যদি পুরো সপ্তাহের খাবার রবিবার(ছুটির দিনে) এবং বুধবার(মাঝের আরেকটা দিন)প্রস্তুত করে ফেলেন তাহলে আপনার খারাপ খাদ্যভাস বদলে সহজ এবং পুষ্টিসম্মত সুষম খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে সক্ষম হবেন।
13. আয়ের ১০ ভাগ সঞ্চয় করুনঃ
Take a page from Lil Dicky and “Save Dat Money” [1](টাকা সঞ্চয় করা নিয়ে একটা র্যাপ গান)
একটা ছোট সঞ্চয়ী হিসাব আপনার দুশ্চিন্তা দূর করতে সাহায্য করবে এবং সেইরকম ভাবে আপনার জীবনমান উন্নত করবে।
14. আগেরদিন রাতে পরেরদিনের পরিকল্পনা করুনঃ
বেশিরভাগ মানুষ অকার্যকর কারণ তারা পরিকল্পনা করতে ব্যর্থ হয় তথাপি ব্যর্থ হয়ার পরিকল্পনা করে।
প্রতিদিন রাতে ১০ মিনিট সময় নিয়ে ৩টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন কাজের কথা লিখে ফেলুন যেগুলো অবশ্যই করে ফেলতে চান (৩টি ব্যক্তিগত কাজ এবং ৩টি পেশাসংক্রান্ত কাজ)।
আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি আপনি আগের চেয়ে বেশী কাজ শেষ করতে পারবেন তাও খুব কম সময়ের মধ্যে এবং জীবনকে বেশী উপভোগ করতে পারবেন।
15. একটা টাইমার নিয়ে কাজ করুন এবং কাজের মাঝে প্রচুর বিরতি নিনঃ
আপনি দীর্ঘসময় ধরে বিরতিহীন ভাবে কাজ করে উৎপাদনশীল থাকতে পারবেন না।
এটা আমার অভিমত নয়, এর পুরোটাই আধুনিক স্নায়ুবিজ্ঞান এবং মনোবিজ্ঞানের গবেষনায় প্রমানিত।
একটা টাইমারে চালু করুন এবং ৫০ মিনিট মনোযোগ দিয়ে কাজ করুন। এরপর ১৭ মিনিটের একটা বিরতি নিন পুনরায় কাজে বসার আগে।
আপনি আপনার উৎপাদনশীল এবং কর্মক্ষমতা দেখে শিহরিত(:P) হয়ে উঠবেন।
16. গভীরভাবে কাজ করার সময় ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে রাখুনঃ
আপনি যদি সৃজনশীল কাজ করেন(উদাহরনসরুপ- লিখালেখি, ভিডিও সম্পাদনা, সফটওয়্যার ডিজাইন ইত্যাদি) তাহলে আপনি আপনার গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময়গুলোতে পূর্ণ মনো্যোগ নিশ্চিত করতে চাইবেন।
আপনার কর্মদিবসের প্রথম তিনঘন্টার মধ্যে কাজ শেষ করতে যা যা জরুরী সবকিছু ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করে নিন তারপর ৩ ঘন্টার জন্য ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিন।
এতে আপনি ব্যঘাত দূর করতে সক্ষম হবেন এবং দশগুন বেশী কাজ শেষ করতে পারবেন।
17. ৭ মিনিট ব্যায়ামের মাধ্যমে আপনার সকাল শুরু করুনঃ
সপ্তাহে ৪ থেকে ৬ দিন জিমে যাওয়া সবচেয়ে ভাল বুদ্ধি, কিন্তু সম্ভব না হলে সকালে ৭ মিনিট ব্যায়াম করে দিনটা শুরু করা ভালবোধ করার জন্য এবং সক্রিয় থাকার জন্য যথেষ্ট।
শুধুমাত্র হালকা কিছু ব্যায়াম কিংবা এক মেইল দৌড় এবং এতেই আপনি এত ভালবোধ করবেন যে চমৎকৃত হবেন।
18. প্রতিদিন দুই পৃষ্ঠা ডায়েরী লিখুনঃ
একটা ডায়েরী নিন এবং আপনার ভাবনাগুলো দুই পৃষ্ঠায় লিখুন প্রতিদিন।
এই অভ্যাসটা আপনার উদ্বেগ এবং হতাশা দূর করে মানুসিক বিশৃংখলা সেইরকমভাবে কমিয়ে দিবে।
19. প্রতিদিন আপনার একজন কাছের মানুষকে বার্তা পাঠানঃ
জীবন ক্ষণস্থায়ী, আপনি কখনোই জানতে পারবেন না কখন আপনার কাছের একজন মানুষকে আপনার কাছ থেকে ওপারে নিয়ে যাওয়া হবে।
কি বলতে চানে তাকে/তাদের বলে ফেলুন, আগামীকাল নয়, আজই।
20. প্রচুর সবজি খানঃ
আপনার খাদ্যভাস কি তা নিয়ে আমার মাথা ব্যাথা নেই। আমাদের সবার প্রচুর সবজি দরকার।
আপনার প্রতিবেলার খাবারের সাথে আরেকটি সবজির আইটেম যুক্ত করুন, অবাক হয়ে যাবেন আপনার প্রানশক্তি আর উত্তেজনার বৃদ্ধি উপলব্ধি করে।
21. প্রচুর পানি পান করুনঃ
পানিশুন্যতা একটা খচ্চর।প্রচুর পানি পান করুন এবং এই চুষনেওয়ালা খচ্চরের পিছনে লাত্থি দিয়ে তাকে ভাগিয়ে দিন।
এইতো এগুলোই।
আশাকরি এগুলো কাজে সাহায্য করবে।
শান্ত থাকুন, গ্রাউন্ডেড থাকুন।
সম্পাদক প্রকাশক :মো আরিফ হোসেন
নেভী হাসপাতাল নেট,বন্দর,চট্টগ্রাম
মোবাইল ০১৯১৭-৯০৫৬৭৫


No comments:
Post a Comment