Tuesday, July 7, 2020

১৮ বছর বয়সে আপনি কোন পরামর্শ দিবেন?


১৮ বছরের একটি ছেলে অথবা মেয়েকে আমি নিচের পরামর্শগুলো দিবো । আমি মাঝে মাঝে ভাবি ওই বয়সটাতে যদি এমন কেউ থাকতো যে এই কথাগুলো বলে দিতো, তাহলে আমি আজকের চেয়ে আরো উন্নত জীবন পেতাম ।

১) আবেগের জলে নিজেকে জলাঞ্জলি দিয়ো না। নিজের জন্য বাঁচো, পরিবার অথবা অন্য কারো জন্য নয়।

তুমি যেটা সত্যিকার অর্থে হতে চাও সেটার জন্যই শ্রম দাও । নিজেকে প্রশ্ন করো- "আজ থেকে ১০ বছর পর আমি নিজেকে কোথায় দেখতে চাই ?"

২) কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো তোমার যেটা আছে সেটার জন্য !

ধরে নাও- এখন তোমার যেটা নেই সেটার যোগ্য তুমি নও (অথবা সেটা তোমার পাওয়ার কথা না), আর যেটা আছে সেটাকে যথেষ্ট মূল্যায়ন করো ।

৩) তুমি আজ পরীক্ষায় কি ফলাফল করলে তাতে কিছুই যায় আসে না । বাস্তব জীবন নিচের ছবির মতো ।

এমনকি কোন প্রতিষ্ঠানে অধ্যায়ন করছো সেটাতেও কিছু যায় আসে না । গুরুত্বপূর্ণ হলো- "আজ থেকে ঠিক এক যুগ পরে তোমার অবস্থান কোথায় হবে ।"

মনে রাখবে পরীক্ষার খাতা আর জীবনের খাতা দুটোই আলাদা । জীবনের খাতায় সাফল্য অর্জন করার জন্য একটু ভিন্নভাবে তোমাকে চিন্তা করতে হবে । একসময় দেখবে তোমার ক্লাসের সেরা ছাত্রটা রাস্তার মোড়ে মুদির দোকানে তেল বিক্রি করছে, আর যাকে তুমি পাত্তাই দিতে না সেই ছেলে অথবা মেয়েটার কাছে শত শত লোক চাকরিরি জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে থাকছে । এটি আমি একটি উপমা দিয়ে বোঝালাম মাত্র ।

তাই সমাজকে সন্তুষ্ট করার জন্য কিছু করো না, বরং নিজের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে দুনির্বার গতিতে এগিয়ে যাও ।

৪) অধ্যায়ন করার পাশাপাশি জীবিকার জন্য কিছু করো ।

এটা তোমাকে বাস্তবতার সাথে পরিচয় করিয়ে দিবে এবং ভবিষ্যতে তোমার পথ চলা অনেক সহজ করে দিবে । বিশ্বাস করো, এই সামান্য অভিজ্ঞতা তোমাকে অনেক এগিয়ে নিয়ে যাবে যখন তুমি ছাত্রজীবনের পথ চুকিয়ে কর্ম জীবনে প্রবেশ করবে ।

৫) এখন থেকেই দান করার অভ্যাস করো ।

ছোট ছোট করে করো । রাস্তার পাশে অসহায় ভিখারিকে দেখে নাক না সিটকিয়ে বরং তোমার টিফিনের পয়সা থেকে একটি ওকে দাও ।

তোমার বাবা-মা এই দান করার মানসিকতা পছন্দ করবে না, আমি জানি । তারা বলবে “ছাত্রজীবনে এগুলির প্রয়োজন নেই ।’’

কিন্তু মনে রাখবে ভালো কাজের অভ্যাস ছাত্রজীবন থেকেই করতে হয় ।

৬) প্রতিযোগিতা করার মনোভাব কমাও, বরং সহযোগিতা করো ।

প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে তুমি অন্ধের মতো দৌড়াবে- হয়তো সামনে এগিয়েও যাবে, কিন্তু একসময় হাপিয়ে যাবে। তাই তোমার ক্লাসের কোনো পিছিয়ে থাকা বন্ধুকে তোমার নোট খাতা দিয়ে সহায়তা করো । দেখবে তখন তুমি প্রতিযোগিতা ছাড়াই অনেক কিছু শিখতে পারবে, এবং সকলের ভালোবাসায় সিক্ত হবে !

৭) "গাছের মতো হও, মরা পাতাদের ঝরে যেতে দাও"- (রুমি) ।

আমি জানি তোমার অভিমান আছে, রাগ আছে, ব্যর্থতা আছে । এমনও হতে পারে তোমার আরেক ভাই অথবা বোন পরিবারের কাছ থেকে বেশি সুযোগ পাচ্ছে, আর তোমাকে নিয়ে তেমন কেউ কিছু ভাবছে না । আসলে এরকম সবার ক্ষেত্রেই হয় । কিন্তু তোমার শোক এবং ব্যর্থতাকে শক্তিতে পরিণত করতে হবে ।

৮) ভালো শ্রোতা হও ।

আগে শুনো, কিন্তু পাশাপাশি প্রশ্ন করতেও শিখ । এমন কিছু প্রশ্ন করো যে প্রশ্ন আগে কেউ করে নি । এটা তোমার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করবে এবং কৌতুহলী করে তুলবে । পৃথিবীর সকল সৃজনশীল মানুষেরাই কৌতুহলী।

৯) ভালোবাসো !

কিন্তু অন্ধ ভালোবাসা থেকে বিরত থাকো । যৌক্তিক হও ।

১০) স্মৃতি সঞ্চয় করো ।

সব সম্পদই ক্ষণস্থায়ী এবং নশ্বর । কিন্তু স্মৃতি অনেকদিন বেঁচে থাকে; সুদীর্ঘকাল বেঁচে থাকে ।

১৮ বছরের গল্পগুলো জীবনের শ্রেষ্ঠ্য সাহিত্য । তাই গল্প জমাও, জীবনের গভীরতম সুখকে উপলব্ধি করো, কিছু শিহরণ অথবা প্রথম প্রেমের কবিতা লেখো- এরপর ভালো না লাগলে ছুড়ে ফেলে দাও । ঠিক ঐযে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের কবিতার মতো -

তোমাকে দিলাম, নবীন কিশোর, ইচ্ছে হয় তো অঙ্গে জড়াও

অথবা ঘৃণায় দূরে ফেলে দাও, যা খুশি তোমার

তোমাকে আমার তোমার বয়সী সব কিছু দিতে বড় সাধ হয়।

১১) শুধুমাত্র কাগজের পুস্তকে মুখ বুজে থেকো না ।

প্রকৃতি এবং জগৎকে অধ্যায়ন করো । ভ্রমণ করো ।

১২) পরিমিত পরিমান ঘুমাও ।

আমি নিশ্চিত জানি তোমার শিক্ষকরা বলবে ঘুম বন্ধ করে পড়া মুখস্ত করতে । তোমার মতো বয়সে সবাই ভাবে, না ঘুমিয়ে না খেয়ে সারাদিন রাত অধ্যায়ন করলেই বুঝি সকলের সেরা হওয়া যাবে ।

আসলে দোষটা তোমার নয়, কারণ তোমার মতো সময়ে কেউ আসলে বুঝে উঠতে পারে না "সকলের সেরা" হওয়া বলতে আসলে কি বোঝানো হয়? আদৌ কি সকলের সেরা হওয়ার দরকার আছে ।

তাই নিজের স্বস্থ্যের প্রতি যত্ন নাও, পর্যাপ্ত ঘুম তোমাকে মানুষিক প্রশান্তি দিবে এবং সৃজনশীলতাকে বৃদ্ধি করবে ।

১৩ ) তুমি যদি নারী হও তাহলে সুযোগ এবং অধিকারের আশায় বসে থেকো না । কারণ সুযোগ কারো জন্যই এমনিতে এসে ধরা দিবে না । নিজের যোগ্যতা দিয়ে অন্য সবার চেয়ে পৃথক করো ।

রূপ চর্চার পেছনে সময় কম ব্যয় করো, হাতের কাছ থেকে মেক-আপ বক্সটি দূরে রাখো, বই পড়ো, চিন্তা করো, রুচিশীল এবং সুশীল ব্যক্তিত্ব গঠন করো । কারণ তুমিও চাও না যে তোমার ভবিষ্যৎ পাশের বাসার খালাম্মার মতোই হোক, তোমার স্বপ্ন হবে মহিয়সী নারীদের মতো দৃষ্টান্ত স্থাপন করার !


H.M Arif

Monday, July 6, 2020

প্রশ্নঃ পুরুষের জন্য সিল্ক /রেশমী, হলুদ ও লাল কাপড় পড়া নিষেধ কেন?#সতর্কতা_অবলম্বন_করুন পোস্টটি শেয়ার করুন,নিজে সচেতন হন,অন্যদের সচেতন করুন


পুরুষদের জন্য সিল্ক/রেশম, লাল, হলুদ, জাফরানি কাপড় পরিধানের বিধানঃ

আসসালামুআলাইকুম হযরত । আমি জানতে চাই যে ইসলামে ছেলেদের জন্য হলুদ এবং লাল পোশাক পড়া কতটুকু নিষিদ্ধ । বিস্তারিত আলোচনা করে জানাবেন । রকিবুল ইসলাম শান্ত । ঢাকা-1206
উত্তরঃ
حامدا ومصليا ومسلما، امابعد-

হলুদ, লাল রঙ্গের পোশাক পুরুষদের জন্য মাকরূহ ও শুধুমাত্র রেশমের পোশাক পুরুষদের জন্য হারাম, বিস্তারিত হাদিস দেখুনঃ

ঈদ উপলক্ষে ছেলেদের পোশাকের দোকানগুলোতেই ভীড় কম থাকে না। তবে পোশাকের ব্যাপারে আমাদের একটু সচেতন হওয়া দরকার। পছন্দের তালিকার শীর্ষে স্থান পায় সিল্কের পাঞ্জাবী। ছোট থেকে বড়, বড় থেকে বুড়ো সব বয়সের পুরুষদের প্রায়ই দেখা যায় সিল্কের পাঞ্জাবী পরতে। কিন্তু আমরা হয়ত জানি বা না জেনে সিল্কের পোষাকের দিকে ঝুকি। কিন্তু পুরুষের জন্য তো সিল্ক হারাম করা হয়েছে।
আলী (রাঃ) হতে বর্নিত। তিনি বলেন, নাবী (সাঃ) আমাকে একজোড়া রেশমী কাপড় দিলেন। আমি তা পরিধান করলাম। তার মুখমণ্ডলে গোস্বার ভাব দেখতে পেয়ে আমি আমার মহিলাদের মাঝেে তা বণ্টন করে দিলাম। বুখারিঃইঃফাঃ৫৪২২ আহমাদঃ ১১৭১
আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রসূলূল্লাহ (সাঃ) কে দেখেছি, তিনি ডান হাতে রেশম ধরলেন এবং বাম হাতে সোনা, অতঃপর বললেন, আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য এ দু’টি বস্তু হারাম।’’ আবু দাউদঃ ৪০৫৭, নাসায়িঃ ৫১৪৪, ইবন মাজাহঃ৩৫৯৫
রসুলুল্লাহ (সাঃ) আরও বলেন, আমার উম্মতের মধ্যে এমন কিছু লোক সৃষ্টি হবে, যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে হালাল সাব্যস্ত করবে। সহীহ বুখারীঃ ৫৫৯০
পুরুষদের জন্য হলুদ ও লাল জামা পরার ব্যাপারে হাদিসে নিষেধাজ্ঞা এসেছে। লাল ও হলুদ রঙ পুরুষদের জন্য এই কালারের পাঞ্জাবিও এড়িয়ে চলতে হবে। রসুলুল্লাহ( সাঃ) আমর ইবনুল আস (রাঃ) কে দুইটি হলুদ রঙয়ের কাপড় পরা অবস্থায় দেখলেন। তিনি তখন বলেন, এই রঙ কাফেরদের জন্য, এই রঙের কাপড় পরিধান করো না। মুসলিমঃ ৫২৬০
উমার(রাঃ) বলেন,রসুলুল্লাহ (সাঃ)আমাদেরকে লাল রঙের পোশাক পরতে নিষেধ করেছেন। (মুসনাদে আহমাদ,ইবনে মাজাহঃ ৩৫৯১)
তবে শুধু এক কালারের লাল না হয়ে যদি লালের মাঝে অন্য রঙের স্ট্রাইপ/চেক থাকে তাহলে সেটা পরা জায়েজ আছে। তবে অন্য রঙের স্ট্রাইপ/চেক থাকলেও তাকওয়ার খাতিরে লাল রঙ এড়িয়ে চলাই উত্তম। তাই পোশাকের ব্যাপারে আমাদের একটু সচেতন হতে হবে।
আসুন এরূপ আরও কিছু হাদীস দেখে নেইঃ
সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৭/ পোশাক-পরিচ্ছদ, হাদিস নম্বরঃ ৩৯৯৭
باب مَا جَاءَ فِي الْخَزِّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ بْنُ نَجْدَةَ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ بَكْرٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ يَزِيدَ بْنِ جَابِرٍ، حَدَّثَنَا عَطِيَّةُ بْنُ قَيْسٍ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ غَنْمٍ الأَشْعَرِيَّ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو عَامِرٍ، أَوْ أَبُو مَالِكٍ – وَاللَّهِ يَمِينٌ أُخْرَى مَا كَذَبَنِي – أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏”‏ لَيَكُونَنَّ مِنْ أُمَّتِي أَقْوَامٌ يَسْتَحِلُّونَ الْخَزَّ وَالْحَرِيرَ ‏”‏ ‏.‏ وَذَكَرَ كَلاَمًا قَالَ ‏”‏ يُمْسَخُ مِنْهُمْ آخَرُونَ قِرَدَةً وَخَنَازِيرَ إِلَى يَوْمِ الْقِيَامَةِ ‏”‏ ‏.

আবদুল ওয়াহাব ইবনে নাজদা (রঃ) ………আবূ আমির বা আবূ মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তারা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শোনেনঃ আমার উম্মতের মধ্যে (পরবর্তীকালে) এমন লোক সৃষ্টি হবে, যারা রেশম মিশ্রিত বা শুধু রেশমের তৈরী কাপড় (ব্যবহার করাকে) হালাল মনে করবে। এরপর তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য কিছু বর্ণনা করার পর বলেনঃ এদের কিছু লোক কিয়ামত পর্যন্ত বানর ও শুকরে রূপান্তরিত করে দিবেন।

সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৭/ পোশাক-পরিচ্ছদ, হাদিস নম্বরঃ ৪০০২

باب مَنْ كَرِهَهُ حَدَّثَنَا الْقَعْنَبِيُّ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نَافِعٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ حُنَيْنٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ، رضى الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم نَهَى عَنْ لُبْسِ الْقَسِّيِّ وَعَنْ لُبْسِ الْمُعَصْفَرِ وَعَنْ تَخَتُّمِ الذَّهَبِ وَعَنِ الْقِرَاءَةِ فِي الرُّكُوعِ ‏.‏
সুলায়মান ইবনে হারব (রঃ) ……… আলী (রাঃ) থেকে বর্নিত। তিনি বলেন, একবার হাদিয়া স্বরূপ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট এক জোড়া রেশমী কাপড় আসলে, তিনি তা আমার নিকট পাঠিয়ে দেন। আমি তা পরিধান করে তার নিকট উপস্থিত হলে আমি তার চেহারায় রাগের চিহ্ন দেখতে পাই। তখন তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমি এটা তোমার পরিধান করার জন্য পাঠাইনি। পরে তিনি আমাকে নির্দেশ দিলে তা আমি আমার স্ত্রীদের মাঝে বিতরণ করে দেই।

সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৭/ পোশাক-পরিচ্ছদ, হাদিস নম্বরঃ ৪০০৬

باب مَنْ كَرِهَهُ حَدَّثَنَا مَخْلَدُ بْنُ خَالِدٍ، حَدَّثَنَا رَوْحٌ، حَدَّثَنَا سَعِيدُ بْنُ أَبِي عَرُوبَةَ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنِ الْحَسَنِ، عَنْ عِمْرَانَ بْنِ حُصَيْنٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏”‏ لاَ أَرْكَبُ الأُرْجُوَانَ وَلاَ أَلْبَسُ الْمُعَصْفَرَ وَلاَ أَلْبَسُ الْقَمِيصَ الْمُكَفَّفَ بِالْحَرِيرِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَأَوْمَأَ الْحَسَنُ إِلَى جَيْبِ قَمِيصِهِ ‏.‏ قَالَ وَقَالَ ‏”‏ أَلاَ وَطِيبُ الرِّجَالِ رِيحٌ لاَ لَوْنَ لَهُ أَلاَ وَطِيبُ النِّسَاءِ لَوْنٌ لاَ رِيحَ لَهُ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ سَعِيدٌ أُرَاهُ قَالَ إِنَّمَا حَمَلُوا قَوْلَهُ فِي طِيبِ النِّسَاءِ عَلَى أَنَّهَا إِذَا خَرَجَتْ فَأَمَّا إِذَا كَانَتْ عِنْدَ زَوْجِهَا فَلْتَطَّيَّبْ بِمَا شَاءَتْ ‏.‏
মূসা ইবনে ইসমাইল (রঃ) ……… আনাস ইবনে মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ রোমের বাদশাহ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর জন্য হাদিয়া স্বরুপ একটি রেশমী-চোগা (এক ধরনের জামা) প্রেরণ করেন। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা পরিধান করেন, যা পরিধান করেন, যা পরিধানের পর তার হাত হেলানের দৃশ্য এখন ও আমার চোখে উদ্ভাসিত। পরে তিনি তা জা’ফর (রাঃ) এর নিকট প্রেরণ করেন। তিনি তা পরিধান করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বলেনঃ আমি এটা তোমার পরার জন্য দেয়নি। তখন তিনি জিজ্ঞাসা করেনঃ তবে এটা কি করবো ? তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ তুমি এটা তোমার ভাই নাজাশীর নিকট পাঠিয়ে দাও।

সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ২৭/ পোশাক-পরিচ্ছদ, হাদিস নম্বরঃ ৪০০৯

باب مَنْ كَرِهَهُ حَدَّثَنَا حَفْصُ بْنُ عُمَرَ، وَمُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي إِسْحَاقَ، عَنْ هُبَيْرَةَ، عَنْ عَلِيٍّ، – رضى الله عنه – قَالَ نَهَانِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ خَاتَمِ الذَّهَبِ وَعَنْ لُبْسِ الْقَسِّيِّ وَالْمِيثَرَةِ الْحَمْرَاءِ ‏.‏
হাফস ইবনে উমার (রঃ) ……… আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেনঃ আমাকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সোনার আংটি ও রেশমের বস্ত্র পরিধান করতে লাল জিন-পোশের উপর সওয়ার হতে নিষেধ করেছেন।

সহীহ মুসলিম (ইফাঃ), অধ্যায়ঃ ৩৮/ পোশাক ও সাজসজ্জা, হাদিস নম্বরঃ ৫২৬০

باب النَّهْىِ عَنْ لُبْسِ الرَّجُلِ الثَّوْبَ الْمُعَصْفَرَ، ‏‏ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ يَحْيَى، حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ الْحَارِثِ، أَنَّ ابْنَ مَعْدَانَ، أَخْبَرَهُ أَنَّ جُبَيْرَ بْنَ نُفَيْرٍ أَخْبَرَهُ أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَمْرِو بْنِ الْعَاصِ أَخْبَرَهُ قَالَ رَأَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَىَّ ثَوْبَيْنِ مُعَصْفَرَيْنِ فَقَالَ ‏ “‏ إِنَّ هَذِهِ مِنْ ثِيَابِ الْكُفَّارِ فَلاَ تَلْبَسْهَا ‏”‏ ‏.‏
মুহাম্মাদ ইবনু মুসান্না (রহঃ) … আবদুল্লাহ ইবনু আমর ইবনু আস (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ‘উসফুর’ ঘাস দ্বারা রঞ্জিত (কুসুম ও হলুদ রঙের) দুটি কাপড় দেখে বললেন, এগুলো কাফিরদের পোশাক। সুতরাং তুমি এগুলি পরিধান করবে না।
আল্লাহ পাক আমাদের সবাইকে দ্বীনের সহীহ বুঝ দান করুণ। আমীন।

H.M Arif Hossain

Sunday, July 5, 2020

নিজের আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে আপনি কি কৌশল অবলম্বন করতে পারেন।


Cummings

বেশ কয়েক বছর আগে আমার আত্মবিশ্বাস সম্পূর্ণ তলানিতে ঠেকেছিল। আমার স্বাভাবিক চরিত্র বরাবরই একটু ভিতু, নরম, বড্ড বেশী বাধ্য প্রকারের। ভয় লোক সমাজের, আত্মীয়- বন্ধুদের, ভয় ভালো মেয়ে থেকে খারাপ মেয়ে হয়ে যাওয়ার, ভয় হারিয়ে ফেলার, ভয় অপমানিত হওয়ার, ভয় হেরে যাওয়ার। অজস্র ধরনের ভয় নিয়ে আমি তৈরি হয়েছিলাম। কাউকে না করতে পারতাম না। অনিচ্ছা সত্ত্বেও সেই সব কাজ করতাম যাতে মন সায় দিত না। ভাবতাম এতে যাদের জন্য করছি তাঁরা খুশি হবেন বা সন্তুষ্ট হবেন। নিজে কষ্ট পেতাম কিন্তু সেটাকে বিবেচনায় আনাটা প্রয়োজন বোধ করতাম না। নিজের ভাললাগাগুলো ভুলতে লাগলাম। তারাও আস্তে আস্তে আমার থেকে দূরে সরে গেল। তাকিয়ে দেখার সুযোগই ছিল না তখন। শুধু অন্যকে তুষ্ট করতে ব্যস্ত দিনরাত। নিজস্বতা হারিয়ে গেল। বাইরের জগতে কি ঘটছে জানার চেষ্টাই ছিল না। আমি চার দেওয়ালে নিজেকে বন্দী করে অন্যের স্বপ্ন সাজাতে মগ্ন। আমার স্বপ্নগুলো ভেসে গেল। আত্মবিশ্বাস বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব রইল না। যন্ত্রবৎ চলমান অশরীরী যেন। হঠাৎ একদিন জোর এক ধাক্কা এলো। তাকিয়ে দেখলাম যাদের জন্য নিজেকে বিসর্জন দিয়েছিলাম তাঁরা পিঠে ছুরি মেরে পালিয়ে গেছে। কেউ নেই। আমি একা, নিঃস্ব, দৈন, রিক্ত। পড়ে পড়ে কাঁদলাম। খুব কাঁদলাম। চিৎকার করে ঈশ্বরের কাছে নালিশ জানালাম। হাহাকার করে জানতে চাইলাম আমার অন্যায় কোথায়? কেন এরকম হল? আমার সথেই কেন? কি ক্ষতি করেছি আমি? কার ক্ষতি করেছি? কিন্তু তিনি বোবা কালা অন্ধ হয়ে রইলেন। কিছুদিন পর অনেক বছরের জমা ব্যাথা কমল। এবার ভাবতে শুরু করলাম। বুঝলাম যা করেছি ভুল। আমার অনেক জীবন দর্শনই আজকের যুগে অচল। কেঁদে লাভ নেই। কেউ তোমার জন্য তোমার বিপদে থাকে না। নিজের কথা নিজেকে ভাবতে হয়। সেদিন থেকে নতুন লড়াই শুরু। বেঁচে থাকার লড়াই। এগিয়ে যাওয়ার লড়াই। নিজেকে মানুষ বলে ভাবতে শেখার লড়াই। নতুন করে নিজের আত্মবিশ্বাসকে বাঁচিয়ে রাখার লড়াই।নিজেকে বললাম - 'হয়েছে ! অনেক ন্যাকামো করেছো! নিজের দোষে নিজে ভুগছো। আরও ন্যাকামো মেরে কিস্যু লাভ হবে না। কিছু করার থাকলে করে দেখাও।' তো সেদিন থেকে কতগুলো পন্থা অবলম্বন করলাম। আজও সেগুলো ধরে রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছি। আত্মবিশ্বাসে টই-টম্বুর নই ঠিকই। কিন্তু নিঃশ্বেষিত নই।


  • নিজেকে প্রস্তুত করাঃ যে কোনো পরিস্থিতিতে নিজেকে উপস্থাপন করার আগে নিজেকে মানসিক ও শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ রূপে প্রস্তুত করতে হবে। নিজেকে একটু সুন্দর দেখানো, একটু দিন দুনিয়ার খবর রাখা,চাঁদে কি হচ্ছে না জানলেও চলবে কিন্তু পাশের রাজ্যে কি হচ্ছে তার খবর জানা। আর সব থেকে দরকারি নিজেকে মনে মনে বলা " তুমি সুন্দর, তুমি শ্রেষ্ঠ। তুমি পারবেই। "
  • সুন্দর সাজসজ্জাঃ নিজেকে একটু সুন্দর করে সাজিয়ে রাখাটা দোষের নয় কখনই। এর মানে এই নয় যে দামী নামকরা জিনিসপত্রের দোকান বানিয়ে ফেলতে হবে নিজেকে। বা অতিরিক্ত বেমানান প্রসাধনে বিকট চেহারা করতে হবে। কিন্তু নিজের চেহারার সাথে মানানসই পোশাক-পরিচ্ছদ-প্রসাধন আত্মবিশ্বাস এক ধাপ বাড়িয়ে দেয়।
  • ইতিবাচক মনোভাবঃ ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করতে হবে। চিন্তাভাবনায় সব সময় ইতিবাচক দিক পরিষ্কার করে নির্ধারণ করতে হবে। ইতিবাচক হওয়ার মানে এটা অবশ্যই নয় যে সব সময় সব কিছু আমাদের ইচ্ছা বা চিন্তা অনুয়ায়ী হবে। কিন্তু মনের জোর বাড়বে।
  • নেতিবাচক দূরীকরণঃ চিন্তার জগতে নেতিবাচক চিন্তা কম করতে হবে। আমি কখনই বলব না যে একেবারে করা যাবে না। সেটা কখনই সম্ভব নয়। অবশ্যই নেতিবাচক চিন্তা আসবে, আসা উচিত ও । এর জন্যও অন্য প্রস্তুতি দরকার। কিন্তু কমাতে হবে। যখনই এরকম হবে তখনই অন্য কাজে যা ভাল লাগে - নিজেকে ব্যস্ত করতে হবে।এর সাথে নেতিবাচক মনভাবাকারী মানুষদের সঙ্গ একেবারে পরিত্যাজ্য। অন্যের অনবরত নেতিবাচক চিন্তা আমাদের মন ভারাক্রান্ত করে তোলে। মানসিকভাবে আমরাও দুর্বল হয়ে পড়ি।
  • নিজেকে জানাঃ একটা কথা আছে যুদ্ধের মাঠে যাওয়ার আগে শত্রুর সম্পর্কে সম্পূর্ণ জানা উচিত। যখন আমরা আমাদের নেতিবাচক চিন্তাশক্তিতে পরাজিত করতে শিখে যাই তখন আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে ওঠে। অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস ( Over Confidence) আমাদের এগিয়ে যাওয়ার পথের মূল বাধা হয়ে দাঁড়ায়।আমরা নিজেরাই নিজেদের শত্রুতে পরিণত হয়ে যাই। এই সময় আত্ম বিশ্লেষণ করা দরকার । নিজের খামতি গুলোকে খুঁজে বার করে মানতে হবে যে কিছু ক্ষেত্রে আমি পিছিয়ে। পিছিয়ে পড়া বিষয়গুলোকে যদি শিখে নেওয়া যায় তাহলে উন্নতির রাস্তা পরিষ্কার। কিন্তু না পারলে তা নিয়ে হীনমন্যতার কারণ নেই। প্রত্যেক মানুষের কিছু না কিছু খামতি থাকবেই, এটাই স্বাভাবিক। সেগুলোকে সঙ্গী করে মেনে নিয়ে এগোতে শিখলে আত্মবিশ্বাস সঠিক মাত্রায় বজায় থাকে।
  • সহানুভূতিশীল হওয়াঃ অন্যের প্রতি, অন্যের অনুভূতির প্রতি, অন্যের পরিস্থিতির প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে। খুব ছোট্ট একটা সাহায্য অনেকের জীবনে আশার আলো জ্বেলে দিতে পারে। একটি হাস্যোজ্জ্বল মুখ আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিতে ও বজায় রাখতে সাহায্য করে। কিন্তু তাই বলে অপাত্রে দান করার দরকার নেই। বা নিজেকে বিলিয়ে দিতেও হবে না। সামঞ্জস্য রাখতে জানতে হবে।
  • আদর্শ নির্দিষ্টকরণঃ নিজের মনে কিছু আদর্শ তৈরি করতে হবে। কোনও পরিস্থিতিতে বা কারও জন্যই আদর্শ বিচ্যুত না হওয়াই উচিত। এতে নিজের কাছে ছোট হতে হবে না। আত্মবিশ্বাস হারাবে না।
  • সঠিক ভঙ্গিমাঃ দাঁড়ানো বা হাঁটার সময় শারীরিক ভঙ্গিমা সঠিক রাখা দরকার। মেরুদণ্ড ও কাঁধ সোজা, মাথা উঁচু, সোজা তাকানো — এই স্বাভাবিক ভঙ্গিমা বজায় রাখতে হবে।
  • লক্ষ্য স্থির রাখতে হবেঃ কিছু কিছু লক্ষ্য স্থির করতে হবে। আগামী দিনে কি কি করতে হবে। শুধু লক্ষ্য স্থির করলেই হবে না, তা কি করে অর্জন করা যায় তার পথ পরিষ্কার করতে হবে এবং তাতে সফল হতে হবে। ছোট বা বড় যে কোনো লক্ষ্যেই সফল হওয়া আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে সাহায্যকারী।
  • অভ্যাস তৈরি করাঃ ছোট হলেও কিছু ভাল অভ্যাস তৈরি করতে হবে এবং বদ অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। যেমন ধূম্রপান ত্যাগ করা। ভোরবেলায় ঘুম থেকে ওঠা, ঘুম থেকে উঠে এক গ্লাস জল খাওয়া। এইধরনের ছোট ছোট অভ্যাস যা নিজে সহজেই করা যায়, তা এক মাস করলেই মানসিকতার পরিবর্তন অনুভব করা যায়। একটা ভাল লাগা তৈরি হয়। যা মনের জোর বাড়াতে সাহায্য করে।
  • হাসি ধরে রাখাঃ দুঃখ, কষ্ট, ব্যাথা, যন্ত্রণা, অন্যায়, অবিচার, রোগ, ভোগ জীবনের আরেক নাম। এই সব না থাকলে আমরা যে বেঁচে আছি তা বুঝতে পারব কি করে? কথায় আছে — "কাঁটা হেরি ক্ষান্ত কেন কমল তুলিতে দুঃখ বিনা সুখ লাভ হয় কি মহীতে?" সুতরাং দুঃখ দুর্যোগ যাই হোক না কেন হাসি ভুলে গেলে চলবে না। হাসার কারণ খুঁজে না পেলে এমনিই হেসে নেওয়া ভাল। মন ভাল লাগবে। মন ভাল তো শরীর ভাল, শরীর ভাল তো মেজাজ ভাল, মেজাজ ভাল তো বাকি সব ভাল। এক্ষেত্রে কিছু বন্ধু থাকা দরকার। যারা পরিস্থিতিকে পাত্তা না দিয়ে জোর করে হাসাতে সক্ষম।
  • জ্ঞানার্জনঃ চেষ্টা থাকতে হবে যে কোনও বিষয়ে জ্ঞান আহরণ করার। বিষয় সম্বন্ধীয় জ্ঞান আত্মবিশ্বাসকে জোড়াল করতে সাহায্য করে। কোনও বিষয়ে উপস্থাপনার আগে সেই বিষয়ে ভাল জ্ঞান থাকা দরকার। নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস এব্যাপারে যথেষ্ট ফলপ্রসূ।
  • নিজেকে গুরুত্ব দেওয়াঃ নিজেকে ভালবাসতে হবে।নিজের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে। নিজেকে দাম দিতে হবে। এব্যাপারে যদিও আমি নিজে পিছিয়ে। তবুও বলব নিজেকে নিজে দাম দিতে না পারলে অন্যরাও দেবে না। অতিরিক্ত মূল্যবোধ যেমন ক্ষতিকর, তেমনি নিজেকে মূল্যহীন করে ফেলাটাও আত্মবিশ্বাস সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলতে পারে। নিজের ছোট ক্ষমতাতেও ভরসা রাখতে হবে। যখনই নিজের প্রতি বিশ্বাসের অভাব হবে তখনই নিজের গুনের কথা মনে করে নিজেকে সাহস জোগাতে হবে। তবেই আত্মবিশ্বাস বজায় থাকবে । নিজেকে সময় দিতে হবে। সারাদিনে অন্তত কিছুটা সময় শুধু নিজের জন্য থাক।
  • সমস্যা ও সমাধান জানাঃ সমস্যার সম্মুখীন হওয়া স্বাভাবিক। সেগুলির সঠিক বিশ্লেষণ করার জন্য প্রথমে চিহ্নিত করতে হবে। সুবিধার জন্য লেখা অভ্যাস করতে হবে। এক এক করে সমাধান খুঁজে বের করে তা প্রয়োগ করতে হবে।

আত্মবিশ্বাস বজায় রাখতে হলে সঠিক আত্মবিশ্লেষণের মাধ্যমে আত্মবল বৃদ্ধি করাই হল মূলমন্ত্র।

H.M Arif

যে পাঁচটি কাজ কখনোই শুরু করা উচিত নয়।


  1. ড্রাগ সেবন। আমি দেখেছি প্রচুর ব্যাচ-মেটস্ এবং বন্ধুরা মাদকের আসক্তির কারণে তাদের জীবনটাই নষ্ট করে দেয়। ড্রাগ সেবন করা কোনো দেখানোর মতো কাজ না। ভাববেন "একবার ড্রাগ নিলে ক্ষতি কি! "। দেখতে দেখতে কখন আসক্ত হবেন নিজেই জানতে পারবেন না।
  2. ধূমপান। ধরি, ১ থেকে ১০ এর স্কেলে, ১০ হলো স্বাস্থ্যের পক্ষে সবচেয়ে ক্ষতিকারক। যদি ড্রাগের আসক্তি স্কেলে ১০ এ অবস্থান করে, তবে ধূমপানের অবস্থান ৯ এর কাছাকাছি থাকবে। প্রায় প্রত্যেক ধূমপায়ী ব্যক্তি কেবল "একবার চেষ্টা করে দেখি " বলে প্রথম সিগারেট মুখে দেন। তাই যদি কেউ আপনাকে সিগারেট অফার করে, তবে তার থেকে সরাসরি দূরে থাকুন।
  3. হস্তমৈথুন। হস্তমৈথুন সম্পূর্ণ সাময়িক আনন্দ। কিন্তু একবার শুরু করলে ছাড়ানো মুশকিল। যার কারণে সাময়িক তৃপ্তি মেটালেও সারাজীবন অতৃপ্তিতে কাটাতে হবে।
  4. জুয়া। আপনি আজকের বিশ্বে জুয়া খেলে "যুধিষ্ঠির" হতে পারবেন না। আর জুয়া কখনোই প্রশংসনীয় কোনো খ্যাতিমান কাজ না। আপনি ভাবছেন যে, এইবার আপনি জয়ী হচ্ছেন, তবে তা বুঝার আগেই ফকির হতেও পারেন।
  5. প্রতারণা / ধোকাবাজি। প্রতারণার উদ্দেশ্যই হলো পুরো শুদ্ধ সিস্টেম কে পরাস্ত করা। আপনি পরীক্ষা দিতে গিয়ে সাধারণ একটা নকলের মাধ্যমে শুরু করলেন, তবে আপনার ধারণাই নাই যে আপনি পুরো বিশুদ্ধ সিস্টেমটার সাথেই প্রতারণা করছেন। প্রতারণার সাহায্যে স্বল্পমেয়াদে সহায়তা নিতে পারবেন ঠিকই, কিন্তু পরবর্তীতে বড় বড় কাজের ক্ষেত্রে আর আত্মবিশ্বাস খুঁজে পাবেন না।
  6. গড়িমসি / আলসেমি। একবার চলে যাওয়া সময় কখনই ফিরিয়ে আনতে পারবেন না। প্রত্যেকেরই একদিনে ২৪ ঘন্টা থাকে, এর থেকে এক সেকেন্ড বেশি সময়ও আপনি পাবেন না।আর কেউই শুধু শুধু দিবা স্বপ্ন দেখে সফল হননি। H.M Arif

কোন ভুলগুলো জীবনকে ধ্বংস করে দেয়?


২। অতিরিক্ত লোভ করার মতো ভুল, জীবনকে ধ্বংস করে দেয়।

৩। নেশাজাতীয় দ্রব্যকে নিজের নিয়ন্ত্রক বানিয়ে রাখার মতো ভুল, জীবনকে ধ্বংস করে দেয়।

৪। কল্পনা আর বাস্তবের পার্থক্য অনুধাবন করার অক্ষমতাজনিত ভুল, জীবনকে ধ্বংস করে দেয়।

৫। নিজের জীবনে যা কিছুই প্রাপ্তি ঘটেছে, সেটাকে সানন্দে গ্রহণ না করে, অপ্রাপ্তির বেদনায় সর্বক্ষণ নিজেকে বিদ্ধ করার মতো ভুল, জীবনকে ধ্বংস করে দেয়।

৬। জীবনে নিজের ইচ্ছে মতোই সব কিছুই ঘটবে, এ ধরণের ধারণাজনিত ভুল, জীবনকে ধ্বংস করে দেয়।

ধ্বংস হয়ে যায় জীবন। আত্মহননের পথ বেছে না নিলেও, জীবনের অস্তিত্বকে ছোঁয়া যায় না। নাগালের মাঝে থেকেও, অধরাই থেকে যায় জীবন।

H.M.Arif

বেঁচে থাকতে হয়, জীবন্মৃত অবস্থার মাঝেই।

Saturday, July 4, 2020

কিছু মনস্তাত্ত্বিক কৌশল শিখে রাখা ভালো।


আমার অল্প সল্প জ্ঞান দিয়ে যতটুকু মাথায় আসছে ততটুকুই লিখে ফেলি।

১)অনেকক্ষন কোন একটা বিষয় নিয়ে অনেক বিরক্ত,অনেক কষ্ট পাচ্ছেন,কাউকে বলতেও পারছেন না?কোথাও লিখে ফেলুন,পার্সোনাল ডাইরি নাহলে কোন কাগজে....আপনার যা মনে আসছে তাই,কাউকে অপছন্দ হলে তার বিরুদ্ধেও লিখতে পারেন।একটু পর দেখবেন,সেই চিন্তা নিয়ে আর এত ভাবছেন না।(এটা পরীক্ষিত সত্য,আমি করি)

২)কারো কাছ আরও বিস্তারিত উত্তর পেতে চাচ্ছেন?কিন্তু তিনি এড়িয়ে যাচ্ছেন?তার চোখের দিকে তাকিয়ে থাকুন....সে বাধ্য হবে এর চেয়ে বেশি বলতে।(আমার এক ফ্রেন্ড এই বুদ্ধি আমার ওপরেই খাটায়...আমার যদিও রাগ লাগে😅 )

৩)কারো কাছে পছন্দের ব্যক্তি হতে চাচ্ছেন?বেশি করে তার নামটা উচ্চারণ করুন তার সামনে।মানুষ তার নাম শুনতে অন্যের মুখে শুনতে খুবই ভালোবাসে।

৪)কাউকে অপছন্দ হলেই তার নামে অন্য কোন বন্ধু/বান্ধবীর কাছে নিন্দা করে বসবেন না।কষ্ট হলেও এ স্বভাবকে নিয়ন্ত্রণ করুন।এতে আপনার দুটো লাভ হবে,১)আপনার বন্ধু/বান্ধবী বুঝে যাবে আপনি তার নামেও নিন্দা করেন না কারো কাছে,আপনার গ্রহনযোগ্যতা বাড়বে। ২)আপনার মনটা কম কলুষিত থাকবে।

৫)আপনার সাথে যখন খুব খারাপ কিছু হবে,তখন চিন্তা করবেন এর কোন ভালো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কিনা....একটা উদাহরণ দেই,আমার প্রানপ্রিয়(😂)ফোন যখন হারিয়ে গিয়েছিল,আমি খানিকটা ঠান্ডা হয়ে চিন্তা করলাম,"ভালো মোবাইল থাকলে বেশি টিপতে ইচ্ছা করত,এখন খারাপ মোবাইল টিপতেও ইচ্ছা করবে না।ভালো ভালো কাজে সময় দিতে পারব!"😅

৬)মেয়েরা সাধারণত এমন কাউকে পছন্দ করে যারা মুখোমুখি কথা বলে,আর ছেলেরা... পাশাপাশি বসে কথা বলতে।এ জিনিসটা কাউকে ইমপ্রেস করতে কাজে লাগাতে পারেন!😉

৭)কোন গান মাথার মধ্যে একেবারে গেড়ে বসেছে?সারাদিন ওই গান শুনতে ইচ্ছা করছে,পড়াশোনা কাজকর্ম সবসময় ওই গান মাথায় বাজছে?বিরক্ত লাগলেও কিছু করতে পারছেন না?.....একটা কাজ করুন,ইউটিউব বা অন্য কোথাও ওই গানের কোন ভার্সন শুনুন।সবচেয়ে বাজে ভার্সন টা,যার কোন সুর তালের ঠিক নেই।বেশ কয়েকবার শুনুন।এবার দেখবেন ওই গানের কথা ভাবলেই বাজে ভার্সন টাই মাথায় আসবে...আর শুনতেও ইচ্ছা করবে না!😅

৮)আপনি কোন কাজে হেরে গিয়েছেন....আর আপনাকে অপছন্দ করা ব্যক্তিরা এটার কারণে খুব মজা নিচ্ছে?

আপনার প্রতিপক্ষের সামনে গিয়ে হাসুন,প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ ভাবে।কখনো বোঝাবেন না আপনার মন খারাপ।সুন্দর হাসি,ভুবন ভোলানো হাসি দিন।দেখবেন,একসময় সেই প্রতিপক্ষের খুশি আর বেশি দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে না।আপনার প্রতিপক্ষের কাছে আপনার দুঃখী মুখটাই বেশি প্রিয়।

৯)হঠাৎ করে হাতে কিছু টাকা এসেছে?কি করবেন বুঝতে পারছেন না?আপনার প্রিয় কোন মানুষের জন্য কিছু খবচ করে ফেলুন।এতে প্রিয় মানুষটি খুশি হবে,তবে আপনি তার চেয়েও বেশি।(পরীক্ষিত সত্য)

১০)নিজের ভুল/অপরাধ বুঝতে পারলে গলা বাড়িয়ে নিজেকে ঠিক না প্রমাণ করে ক্ষমা চান।সাময়িক ভাবে মনে হতে পারে,এতে আপনি সবার কাছে ছোট হয়ে যাবেন,কিন্তু সত্য হচ্ছে,আপনার ভুল/অপরাধের কারণে আপনি যা ছোট হওয়ার হয়েই গিয়েছেন,এখন আপনার ক্ষমা চাওয়ার সৎ সাহসই আপনার প্রকৃত 'বড়' হওয়ার প্রমান।

১১)কোন মানুষকে স্বভাব বিচার করতে চাচ্ছেন?লক্ষ্য করুন,উনি তার চেয়ে কম মর্যাদা সম্পন্ন মানুষের সাথে কেমন আচরণ করে।

এডিটঃ ১২)আপনি কারো সাথে কথা বলতে চাইছেন না?তার কথা শেষ হওয়ার আগে জল খাওয়া শুরু করে দিন।ধীরে ধীরে খান….যতক্ষন না উনি অপেক্ষা করতে করতে ক্লান্ত হয়ে চলে যাচ্ছেন! 😉😅

রাস্তায় কোন অপছন্দের ব্যক্তির আগানো দেখতে পাচ্ছেন,কিন্তু এড়িয়ে যেতে চাইছেন? সুন্দর করে আপনার মোবাইল টা বের করে কানে নিয়ে ভ্রু কুঁচকে খুব গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথনে ব্যস্ত আছেন,এমন ভাব করুন!😆😉

১৩)কাউকে অপ্রস্তুত/ অস্বস্তিতে ফেলতে চাচ্ছেন?কিছুক্ষণ তার পায়ের দিকে বা চুলের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকুন।দেখবেন কিছুক্ষণ পর অপর প্রান্তের ব্যক্তি খুশখুশ শুরু করেছে!

১৪)নিজেকে অন্যদের থেকে একটু আলাদা বানাতে চান?যখন কোন কিছু বলবেন,সময়/সংখ্যাটা খুব নির্দিষ্ট করে বলবেন।যেমন,"এই লেখাটা লিখতে কতক্ষন লেগেছে?১৫/২০ মিনিট না বলে বলুন ২২ মিনিট।ঘুম থেকে কখন উঠেছেন?সোয়া ৮ টা বলে বলুন,৮ টা ১৭ মিনিট।এখন ভাবছেন,আমি কি গুনে গুনে কাজ করব নাকি!আরে,যাকে বলছেন সে কি আদৌ দেখতে আসবে আপনি কতটা গুনেছেন! আমি এই ট্রিকস টা প্রচুর খাটাই!😅

১৫)কোন গোপন কথা বলতে চাচ্ছেন না কিন্তু বন্ধু চেপে ধরেছে বলতেই হবে?তাকে ফিসফিস করে আশেপাশে তাকিয়ে বলুন,"দোস্ত,তোকে তো বলবোই।একটু পরে বলি?" এতে দুটো কাজ হবে,আপনার বন্ধু নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য মনে করবে এবং ৭০% সম্ভাবনা সে এই ঘটনার কথা মনে রাখবে না(যদি মারাত্মক বড় কোন বিষয় না হয়)

বিঃদ্রঃএগুলো পরিচিত লাগতে পারে।এজন্য বলে নেই, এগুলোর কয়েকটা বিভিন্ন জায়গায় পঠিত জ্ঞান। বিভিন্ন জায়গা থেকে পড়ে ভালো লেগেছিল।আর বাকিগুলো নিজের অভিজ্ঞতা।আমাকে প্রায়ই এসবের দ্বারস্থ হতে হয়,তাই কোরামিত্রদের সাথে শেয়ার করতে ইচ্ছে হলো!😊

Friday, July 3, 2020

শিশুদের মেধা বিকাশে সহায়ক কোন কাজগুলোর বিষয়ে বেশিরভাগ অভিভাবকই জানেন না আজ জানুন


মেধাবী - হতে বোধহয় সবাই চায়, কিন্তু মেধা সম্পর্কে আমাদের বহু ভুলভাল ধারণা আছে। আমরা মনে করি বেশি নম্বর মেধা নির্ধারণ করে। এটা কিন্তু ভুল। আমি ট্রেনিং- এ যে সব বিষয়গুলো সম্পর্কে জেনেছি, সেইগুলো তুলে ধরছি :

উন্নত মেধা সম্পন্ন শিশুদের কয়েকটি বৈশিষ্ট্যের কথা ওয়ালটন ( Walton - 1961) :

  1. এরা সহজে তাড়াতাড়ি শিখতে পারে।
  2. বিভিন্ন বিষয়ে সাধারণ জ্ঞান ও ব‍্যবহারিক জ্ঞান প্রয়োগ করতে পারে।
  3. অন্যান্য শিক্ষার্থীদের থেকে জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত হয়।
  4. যথাস্থানে ও সঠিক শব্দ চয়ন করতে পারে।
  5. একাধিক বিষয়ের মধ্যে সম্পর্ক ও তাৎপর্য নির্ণয় করতে পারে।
  6. কোন বিষয়ে সহজেই প্রতিক্রিয়া করতে পারে।
  7. একবার শুনে ও দেখে কোন বিষয় সঠিকভাবে মনে রাখতে পারে এবং প্রয়োজনে সেই বিষয়ে বলতেও পারে।

Renzulli ও Reis ( 1991) আরও কিছু বৈশিষ্ট্যের কথা বলেছেন :

  1. মেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা নিজেকে কাজে ব্যাপৃত রাখে ও নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকে।
  2. এরা সৃজনশীল, এদের চিন্তাধারা ব্যতিক্রমী হয় ও বিভিন্ন বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী হয়।

এদের বিশেষ চাহিদা আছে, যেটা অধিকাংশ অভিভাবক জানেন না :

  1. এরা চায় এদের কাজগুলির প্রশংসা করা হোক ও অনুমোদন করা হোক। এই সব শিক্ষার্থীর যথাযথ জীবন বিকাশের জন্য সাধারণের থেকে বেশি গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব দিতে হয় ও তাদের সাফল্যের মর্যাদা দান করতে হয়।
  2. এরা সাধারণ শিশু অপেক্ষা অনেক বেশি কৌতুহলপ্রবণ হয় এবং জ্ঞানের চাহিদা খুব বেশী থাকে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের এদের কৌতূহল ও জ্ঞানের চাহিদা পূরণে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং উৎসাহ দেবেন।
  3. এরা অভিভাবক বিশেষত বাবা-মার কাছে বেশি যেতে চায়। এটা কিছুটা নিরাপত্তা চাহিদা থেকে আসে।
  4. এদের মধ্যে সব সময় কোন না কোন কাজে ব্যাপৃত থাকার প্রবণতা থাকে। এরা যাতে এদের চাহিদা ও পছন্দ মত কাজ করার সুযোগ পায় তার প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন।
  5. এইসব শিক্ষার্থীরা সর্বদা যুক্তি দিয়ে ভাবতে চায়। যুক্তিবিজ্ঞানের কথা তারা সহজে মানতে চায়। তাই এদের কাছে সবসময় যুক্তিপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করতে হয়।

এদের শিক্ষা দেওয়ার বিশেষ ধরণ আছে :

  • উন্নত মেধাসম্পন্ন শিক্ষার্থীরা যেহেতু মানসিক ক্ষমতার দিক থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের থেকে ব্যতিক্রম হয়, তাই তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা বিশেষ ধরনের হওয়া উচিত।
  • এইসব ব্যতিক্রমী শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠক্রমের মধ্যে কিছু বিশেষ উন্নত বিষয়সমূহ থাকবে, যা তাদের জ্ঞানের চাহিদাকে পরিতৃপ্ত করে। সাধারণ মানের পাঠক্রম যদি তাদের অনুসরণে বাধ্য করা হয় সেক্ষেত্রে তাদের মানসিক ক্ষমতার পুষ্টি হবে না এবং ব্যক্তিসত্তার পরিপূর্ণ বিকাশ সাধন হবে না। তাদের জন্য অপেক্ষাকৃত কঠিন সমস্যা দেওয়া থাকবে, যা তাদের কৌতুহলী মনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে।কঠিন সমস্যার সমাধানে ব্যস্ত থাকলে এইসব উন্নত বুদ্ধির শিক্ষার্থীরা শ্রেণীতে শৃঙ্খলা সমস্যা তৈরি করতে পারে না। ফলে শিখনের কাজে সুবিধা হয়।তবে একই শ্রেণীতে উন্নত বুদ্ধি ও সাধারণ বুদ্ধি সম্পন্ন শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া করলে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় উন্নত বুদ্ধি শিক্ষার্থীরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে থাকতে থাকতে কঠিন কাজ করার উৎসাহ হারিয়ে ফেলে।
  • উন্নত মেধা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের শিক্ষণীয় বিষয় আয়ত্ত করার গতি অনেক বেশি। সেই কারণে এমন ব্যবস্থা করা দরকার যাতে তারা অন্যদের থেকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়। অনেক সময় এদের বয়স অপেক্ষা উচ্চশ্রেণীর পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়।কিন্তু এই ব্যবস্থা নেতিবাচক দিকও আছে। তাদের বয়সের তুলনায় বেশি বয়স্ক শিক্ষার সঙ্গে মেলামেশা করার ফলে তাদের সামাজিক ও মানসিক বিকাশ বিঘ্নিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। শিক্ষক সর্বদা যদি তাদের প্রতি খেয়াল না রাখেন তাহলে কোনো বিশেষ বিষয় সম্পর্কে জ্ঞানের ঘাটতি থেকে যেতে পারে।সেক্ষেত্রে উঁচু ক্লাসে ওঠার পর সমস্যা তৈরি হয় তৃতীয় একটি ব্যবস্থায় বলা হয়েছে, এসব ব্যতিক্রমী শিশুদের জন্য পৃথক শ্রেণী করা দরকার। উন্নত মানের পাঠক্রম অনুসরণ করে শিক্ষাদানে উন্নত মানের জ্ঞান আহরণ দ্রুতহারে হয়। তবে এক্ষেত্রেও এইসব শিক্ষার্থীদের অবাঞ্ছিত অহংবোধ জন্মাতে পারে যা তাদের তাদের সামাজিক অভিযোজনে সমস্যা সৃষ্টি করে। [1]

অর্থাৎ, উন্নত মেধা সম্পন্ন শিশুদের নিরাপত্তার চাহিদা বেশি থাকে, তাই মা - বাবা বা অন‍্য স্নেহের সম্পর্কে কারও কাছে থাকতে পছন্দ করে।

সবসময় কিছু না কিছু জানার চাহিদা থাকে। বড়দের কর্তব্য তাদের জানার চাহিদাকে সঠিক পথে নিয়ে যাওয়া।

বিশেষ শিক্ষার প্রয়োজন, কিন্তু অবাঞ্ছিত অহং যাতে দূর হয় তার ব‍্যবস্থা করতে হবে। আমার মতে, এইভাবে বলা যেতে পারে, তুমি জান তো কী হয়েছে? তুমি যেটা জান অন‍্যদেরও জানাও। জ্ঞান ভাগ কর দেখ কত ভালো লাগবে।

তাদের সুন্দর করে পরিচর্যা করলে আমাদের সমাজও সুন্দর হবে।

মেধাবী হয়েও যদি কেউ হাল ছেড়ে দেয় বা চেষ্টা না করে, তবে সে হারিয়ে যাবে। মেধাবী হলে খুব তাড়াতাড়ি সব বিষয় আয়ত্ব করা যায় এটা ঠিক, কিন্তু জীবনে কখন কী দুর্ঘটনা ঘটবে কেউ জানি না। তাই তাদের ব‍্যর্থতা সম্পর্কেও সচেতন করতে হবে, যাতে সেই সময় মানসিক দৃঢ়তা ধরে রাখে। দুঃখ - কষ্ট পেলেও ঘুরে লড়াই করার দম থাকবে।

ধন‍্যবাদ। 🙂

H.M Arif