Saturday, February 27, 2021

পাঁয়ে ধরে সালাম করা কি শিরক?

আল্লাহ ছাড়া আর কার কাছে মাথা নত করা ইসলামে নিষেধ।

কিন্তু আপনি যখন কাওকে পা ঢোঁড়ে সালাম করতে যান, তখন কাওকে সিজদা করার উদ্দেশ্যে পা ধড়ে সালাম করেন না। আপনি শুধু বাংলাদেশের একটা ভ্রান্ত রেওয়াজ অনুসরণ করছেন যেটা কিনা হিন্দুদের কাছ থেকে বাঙ্গালি পরিবারে ঢুকে গেছে। বাঙ্গালি জাতীটাই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে হিন্দু পরিবেষ্টনে। আর তাই মুসলিমদের ভিতরে অনেক হিন্দু প্রথাই ঢুকে গিয়েছে। আর এর প্রধান কারন ধর্মের পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকা। এমন কি দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও ইসলামের অনেক ভুল বিষয় বাংলাদেশী মুসলিমরা চর্চা করে গেছে।

এখন সময় পাল্টাচ্ছে। মানুষের ইসলাম সম্পর্কে পড়ার আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। আর এটা যুবকদের ভিতরে ব্যাপক প্রসার পাচ্ছে। আর তাই আপনার এই প্রশ্ন।

শিরক নয় , তবে পা ধড়ে সালাম করার কোন প্রয়োজন নাই। এমন হাত কপালে উঠিয়েও সালামের কোন প্রয়োজন নাই। সালাম একটি দোয়া। বরং যার জন্য এই দোয়া করছেন, মন থেকে করুন। আল্লাহ যেন আপনার অনুরোধ শুনেন এইভাবে সালাম দিন।

Sunday, February 21, 2021

ইসলামে কি ফ্রি ফায়ার গেম খেলা হারাম?

আল-কুরআনে "ফ্রি ফায়ার গেম"-এর উল্লেখ না থাকারই কথা। আল-কুরআনে হারাম হিসেবে উল্লেখ করে দেয়া বিষয়ের পরিমাণ খুবই কম। ঐগুলোকে সরাসরি হারাম বলতে পারি। বাকী অন্য কিছু "হারাম কি না" সেটা বুঝতে হলে ইসলামের দৃষ্টিকোণ থেকে বিচার করতে হয়। ইসলামের নীতির সাথে সাংঘর্ষিক কোনো বিষয় এতে আছে কিনা।

যে কোনো খেলা নিষেধের প্রধান কারণগুলো:

(১) নামাজ থেকে গাফেল করে।

(২) সময়ের অপচয় ঘটায়।

(৩) আল কুরআনে মুমিনের অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হয়েছে, যারা অহেতুক কর্মকাণ্ড পরিহার করে চলে তারা হলো মু'মিন।

(৪) গুটি খেলা (কেরাম ইত্যাদি) - যে ব্যক্তি গুটি খেলা খেললো, সে যেনো তার হাতকে শুকরের গোস্ত এবং রক্তে মধ্যে তার হাত রঞ্জালো। (হাদীস)

(৫) আর্থিক লেনদেন।

কোন খেলাগুলো খেলা যাবে:

চিত্ত বিনোদন এবং খেলাধুলা জায়েজ আছে ইসলামে। শরীর চর্চা হয় এমন খেলাগুলো অনুমোদিত।

খেলার ক্ষেত্রে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে:

* পরিবারের সাথে সময় কাটানোর উদ্দেশ্য হলে সেটা খেলা যেতে পারে

* খেলতে গিয়ে নামাজ কাযা করা না হয়,

* আর্থিক লেন-দেন না থাকে,

* পর্দার খেলাফ না হয়,

* খেলার কারণে অট্টহাসি না হয়

* খুব বেশী সময় এ খেলার পেছনে ব্যয় করা না হয়

এগুলো খেয়াল রেখে, খেলার পেছনে অল্প সময় ব্যয় করা যেতে পারে।

শয়তানের কাছ থেকে পরিত্রাণ চাই কিভাবে?

শয়তান থেকে পরিত্রাণ চাইতে, আল্লাহ্‌র সাহায্য ও আশ্রয় প্রার্থনা করতে হবে। নিম্নলিখিত দোয়াগুলো ব্যবহার করার মধ্যেমে সেটা করা যেতে পারে:

  • লা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ
    অর্থ; মহান আল্লাহর সাহায্য ও সহায়তা ছাড়া আর কোন আশ্রয় ও সাহায্য নেই। (শয়তানের কোন ওয়াসওয়াসা বা দূরভিসন্ধিমূলক কোন প্রতারণা থেকে বাঁচার জন্য এটি পড়া উচিত।)
  • আউযুবিল্লাহি মিনাশ শাইতানির র-জীম
    অর্থ: বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।
    (কুরআন তিলাওয়াতের শুরুতে, রাগের সময়, খারাপ স্বপ্ন দেখলে, মনের মধ্যে শয়তান কুমন্ত্রনা দিচ্ছে এরকম মনে হলে)
  • রব্বি আউযুবিকা মিন হামাযাতিশ শায়াতিন
    অর্থ: হে আমার পালনকর্তা! আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে আপনার আশ্রয় প্রার্থনা করি। (সূরা মুমিনুন 23:97)
  • নাউযুবিল্লাহ
    অর্থ- আমরা মহান আল্লাহর কাছে এ থেকে আশ্রয় চাই। (যে কোনো মন্দ ও গুনাহের কাজ দেখলে তার থেকে নিজেকে আত্মরক্ষার্থে এটি বলা হয়ে থাকে।)

এছাড়াও নীচের এইগুলোও অভ্যাস করলে, এটাও পরোক্ষভাবে আমাদের সাহায্য করবে আশা করা যায়:

  • আস্তাগফিরুল্লাহ
    অর্থ- আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। (যে কোনো সময় পড়া যায়।)
  • আলহামদুলিল্লাহ
    অর্থ- সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর জন্য।
    (যে কোন সুখবর বা ভালো অবস্থা সম্পর্কিত সংবাদের বিপরীতে সাধারণত এটি বলা হয়ে থাকে। যেমন- আপনি কেমন আছেন? জবাবে বলা উচিত, আল হামদুলিল্লাহ, ভালো আছি।)
  • ইন-শা' আল্লাহ্‌
    অর্থ- মহান আল্লাহ যদি চান তাহলে।
    (ভবিষ্যতের হবে, করবো বা ঘটবে এমন কোন বিষয়ে ইনশাআল্লাহ বলা উচিত।)
  • মাশা আল্লাহ
    অর্থ- আল্লাহ যেমন চেয়েছেন।
    এটি আল হামদুলিল্লাহ শব্দের মতোই ব্যবহৃত হয়ে থাকে। অর্থাৎ যে কোনো সুন্দর এবং ভালো ব্যাপারে এটি বলা হয়।
  • সুবহানাল্লাহ
    অর্থ- আল্লাহ পবিত্র ও সুমহান।
  • ইন্নালিল্লাহ বা ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি র-জিউন
    অর্থ, নিশ্চয়ই আমরা মহান আল্লাহর জন্য এবং আমরা তার দিকেই ফিরে যাবো।
    (এর মাধ্যমে মৃত্যুকে স্মরণ করা হয়।)
  • জাযাকাল্লাহু খায়রান
    অর্থ; মহান আল্লাহ আপনাকে সর্বোত্তম প্রতিদান দান করুন।
    কেউ আপনার কোন উপকার করলে- তাকে থ্যাংক ইউ না বলে বলুন- জাযাকাল্লাহু খায়রান
    আর এর উত্তরে বলা যায়:
    ওয়া ইয়্যাকা / ওয়া ইয়্যাকুম / ওয়া আনতুম ফা-জাযাকুমু-আল্লাহু খাইরন।
    অর্থ- তোমাকেও আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দিন।

আত্মসম্মান বাড়াতে কিছু টিপস কী?

১. কাউকে খুশি করতে গিয়ে অতিরিক্ত তোষামদি করবেন না

২. প্রয়োজনের অতিরিক্ত কথা বলা থেকে বিরত থাকুন

যেন লোকজন বিরক্ত না হয়। এতে করে “ছাগল” ”বাচাল” বা “ওয়েটলেস” এসব ট্যাগ থেকে বেচে যাবেন।

৩. সত্য কথা বলুন

মিথ্যা কথা বললেই আপনাকে জবাবদিহি করতে হবে। যে কেউ আপনাকে চার্জ করার চান্স পাবে । অপদস্থ করার সুযোগও পেতে পারে। সুতরাং নিজের মাথা উচু রাখতে হলে সত্য বলুন।

৪. ভুল হয়ে গেলে স্বীকার করুন। প্রতিপক্ষ দুর্বল হয়ে যাবে ও আপনাকে সম্মান দেখাবে।

৫. ভুল না হলে সরি বলবেন না

৬. ফ্যামিলিকে ছেড়ে আসতে হবে এমন কিছুকে প্রধান্য দেয়া থেকে বিরত থাকুন। যেমনঃ স্ত্রী।

৭. জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করুন

৮. ইমোশনে নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি করুন

৯. লোকে কি বলবে এরকম মনোভাব পরিহার করুন। আপনার জন্য যেটা মঙ্গলজনক সেটা মনোযোগ দিয়ে সম্পাদন করুন।

১০. নিজের দুর্বল দিকগুলো প্রচার করে বেড়ানো থেকে বিরত থাকুন

জীবনের কিছু সেরা টিপসগুলো কী কী?

১. কারও সাথে কথা বলছেন? বেশি বেশি তার নাম ডেকে কথা বলুন।

২. আজকে এমন কিছু একটা করুন যেটাকে আপনি এতোদিন ভয় পেতেন

৩. রান্না শিখে ফেলুন।

৪. কফি চিনি দিয়ে নয়, ডিরেক্ট ব্ল্যাক কফি খান

৫. ছোট বেলাতেই একটি বড় সফলতা অর্জন করে ফেলুন। আত্নবিশ্বাসের ঘাটতিতে ভুগবেন না কোন দিন।

৬. পাশাপাশি বসে যে গল্প হয় সেটি সেরা হয়। মুখোমুখি বসে করা গল্প নয়।

৭. পরীক্ষায় পাশের জন্য নয়, জ্ঞান অর্জনের জন্য পড়ুন

৮. লাইব্রেরির সাথে সংযুক্ত থাকুন

৯. আপনাকে যারা সম্মান করে আবার চ্যলেঞ্জের মুখোমুখিও করে তাদের সহচরে থাকুন

১০. সমাধান আছেই। খুজে বের করুন

Monday, February 15, 2021

রাসুল সা. একটি উম্মতকে রেখেও জান্নাতে যাবেন না-এটির প্রমাণ কী?

আমি আমার একটা উম্মত রেখে জান্নাতে যাব না।” এটা কোন হাদিস নয়।এটা হাদিসের নামে ভিত্তিহীন ও বানোয়াট কথা। বরং হাদিসে বলা হয়েছে যে পৃথিবীতে রাসুল (সা.)-এর উম্মত সর্বশেষ হলেও তাঁরাই সবার আগে জান্নাতে যাওয়ার সৌভাগ্য লাভ করবে। এটি উম্মতে মুহাম্মদির জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ সম্মাননা। রাসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘দুনিয়াতে সব শেষে এসেও আমরাই অগ্রণী হব। মানুষের মধ্যে সর্বপ্রথম আমরাই জান্নাতে প্রবেশ করব।’ (বুখারি, মুসলিম ও নাসায়ী)

এর মানে এই নয় যে, রাসূল (সাঃ) সকল উম্মতকে নিয়ে তারপর জান্নাতে প্রবেশ করবেন । কিয়াতের দিন যাদের নেকীর পাল্লার চেয়ে গুনাহের পাল্লা ভারী হবে তারা সেই পরিমাণ সাজা ভোগ করে তারপর আল্লাহর রসূল (সাঃ) সাফাআত (সুপারিশ) জান্নাতে প্রবেশ করবেন।

ইবনে মাজাহ ও বায়হাকীতে হযরত জাবির (রায়িঃ) হতে বর্ণিত রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন- যখন জান্নাতী ও জাহান্নামীদের মধ্যে পার্থক্য করা হবে তখন জান্নাতীরা জান্নাতে ও জাহান্নামীরা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। এরপর রাসূলগণ দাঁড়াবেন এবং (জাহান্নামীদের জন্য) শাফাআত করবেন। রাসূলদেরকে বলা হবে আপনারা যান, এবং যাদেরকে চিনেন তাদেরকে (জাহান্নাম) থেকে বের করে আনেন। অতপর রাসূলগণ এমন কিছু লোকদেরকে জাহান্নাম থেকে বের করে আনবেন যারা আগুনে জ্বলে ছাই হয়ে গেছে। তাদেরকে নদীতে নিক্ষেপ করা হবে এবং সাদা কড়ার মতো হয়ে বের হবে। অবশেষে যাদের অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমান থাকবে তাদেরকে রাসূলগণ শাফাআত করে জাহান্নাম থেকে বের করে জান্নাতে নিবেন।

বহু সংখ্যক হাদিস দ্বারা প্রমাণিত যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্ব প্রথম জান্নাতে প্রবেশ করবেন। যেমন:

▪ আনাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, কিয়ামতের দিন আমি জান্নাতের দরজায় দিয়ে দরজা খোলার অনুমতি চাইলে জান্নাতের রক্ষক বলবে, কে আপনি? আমি বলব: মুহাম্মদ।

তিনি বলবেন: আপনার জন্যই দরজা খোলার অনুমতি আছে। আপনার পূর্বে কারও জন্য দরজা খোলার অনুমতি নাই।” (মুসলিম, হাদিস নং ১৯৮)

▪ অন্য একটি হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: আমি কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম জান্নাতে প্রবেশ করব।” (সহিহ জামে তিরমিযী ও মাজমাউয যাওয়ায়েদ)

ইসলামে একজন পুরুষ চারটি বিবাহ করা ধর্মসম্মত, কিন্তু একজন মহিলার একাধিক বিবাহে নিষেধ কেন? এই বৈষম্য কেন ?

ভারসাম্যপূর্ণ ন্যায় বিচার ও সমতার ভিত্তির ওপরেই একটি ইসলামী সমাজ প্রতিষ্ঠিত। মানুষ হিসেবে আল্লাহ তা’আলা নারী ও পুরুষকে সমান মান দিয়েই সৃষ্টি করেছেন। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে সামর্থ ও যোগ্যতার ভিন্নতা এবং সে অনুযায়ী দায়িত্ব কর্তব্যের বিভিন্নতা দিয়ে। শারীরিক ও মানসিকভাবে নারী ও পুরুষ সম্পূর্ণ ভিন্ন। জীবনের ক্ষেত্রে তাদের ভূমিকা এবং দায়িত্ব-কর্তব্যও বিভিন্ন। ইসলামে নারী ও পুরুষ সমান কিন্তু একই রকম নয়।সূরায়ে নিসার ২২ থেকে ২৪ আয়াতে একটি তালিকা দেয়া হয়েছে যে, মুসলিম পুরুষ কোন কোন নারীকে বিবাহ করতে পারবে না। এর পরে ২৪ আয়াতে আলাদা করে বলা হয়েছে সেই সব নারীও (নিষিদ্ধ) যারা অন্যের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ আছে- অর্থাৎ অন্যের বউ।
ইসলামে নারীর জন্য বহু-স্বামী গ্রহণ নিষিদ্ধ কেন, নিচে তা উল্লেখ করা হলো
১. একজন পুরুষের একধিক স্ত্রী থাকা সত্ত্বেও তার পরিবারে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের মা-বাবার পরিচয় খুব সহজেই পাওয়া যায়। শিশুর বাবা কে আর মা কে। অপরদিকে একজন নারী যদি একাধিক স্বামী গ্রহণ করে তবে এ পরিবারে জন্ম নেয়া শিশুর শুধু মায়ের পরিচয় পাওয়া যাবে-বাবার নয়। মা-বাবার সুস্পষ্ট পরিচয়ের ক্ষেত্রে ইসলাম আপোসহীন।
আধুনিক মনোবিজ্ঞানিরা বলেন, যে শিশু তার মা-বাবার পরিচয় জানে না, বিশেষ করে মার- সে শিশু তীব্র মানসিক
জটিলতা ও হীনমন্যতায় ভোগে। এ শিশুদের শৈশব নিকৃষ্টতর এবং আনন্দহীন। পতিতাদের সন্তানরা এর জলন্ত প্রমাণ। এদের শিশুকাল ও কৈশোর মর্মান্তিক। বহু স্বামী গ্রহণকারী পরিবারে জন্ম পাওয়া শিশুকে নিয়ে কোনো স্কুলে ভর্তি করতে গেলে যদি মাকে প্রশ্ন করা হয় শিশুর বাবার নাম? তা হলে সে মাকে দু’জন অথবা তার বেশি পুরুষের নাম বলতে হবে।

২. প্রকৃতি প্রদত্ত যোগ্যতা ও বৈশিষ্ট, বহুগামীতায় নারীর চাইতে পুরুষের বেশি।

৩. শারীরিক যোগ্যতায় একজন পুরুষের পক্ষে কয়েকজন স্ত্রীর স্বামীর দায়িত্ব ও ভূমিকা পালন সহজ। একজন নারী সেও একই অবস্থানে, অর্থাৎ যার কয়েকজন স্বামী আছে, তাদের স্ত্রী হিসেবে যে দায়িত্ব ও কর্তব্য তার ওপর বর্তায় তা পালন করা তার পক্ষে আদৌ সম্ভব নয়। কেননা মাসিক ঋতুচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে মানসিক ও আচরণগত বিভিন্ন পরিবর্তনের মধ্যে তাকে পড়তে হয়।

৪. একজন নারী যার একাধিক স্বামী থাকবে-তাকে তো একই সাথে কয়েকজনের যৌন-সঙ্গী হতে হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সমূহ সম্ভাবনা থাকবে যৌন রোগের এবং যৌনতার মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অন্যান্য মারাত্মক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে পড়ার। উপরন্তু তার মাধ্যমেই সে সব রোগে তার স্বামীর আক্রান্ত হবে। এমনকি যদি তার স্বামীদের কারো অন্য কোনো নারীর সাথে বিবাহ বর্র্হিভূত যৌন সম্পর্ক নাও থাকে। পক্ষান্তরে একজন পুরুষ- যার একাধিক স্ত্রী রয়েছে, স্ত্রীদের কারো যদি বিবাহ বহির্ভূত অন্য কারো সাথে যৌন সম্পর্ক না থাকে তাহলে যৌনতা সংক্রান্ত কোনো রোগে আক্রান্ত হবার আদৌ কোনো সম্ভাবনা নেই।
সবচেয়ে বড় কথা হলো যিনি নর-নারী সৃষ্টি করেছেন; তিনি নিষিধ করেছেন।

# শুধু ইসলাম না অন্যন্যে ধর্মেও পুরুষের বহু বিবাহ ধর্মসম্মত। এবং একজন মহিলার একাধিক বিবাহ নিষেধ।প্রশ্নকর্তাকে বলি আপনার মায়ের যদি চারজন স্বামী থাকত তাহলে আপনি কাকে বাবা ডাকতেন চারজনকে। এখন আপনি বলবেন আমি মাতৃপরিচয় দিতাম তখন পিতার পরিচয় দিতে গেলে তো চারজনের নাম আসতো। আসলে এটা কোন সভ্য সমাজের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না।

আমরা যাতে সঠিকভাবে আমাদের বাবা ও মায়ের পরিচয় দিতে পারি এজন্যে ইসলাম নারীর বহু বিবাহ সমর্থন করে না। আর এটা বৈষম্য নয় নারী পুরুষের ক্ষেত্রে সমতা রক্ষা করেছে ইসলাম।